আধুনিক ডিসপ্লে প্রযুক্তি
শুভময় ভট্টাচার্য্য
অনেক বছর ধরে আমরা
পিকচার টিউব টিভি দেখেই অভ্যস্থ, যাকে সি আর টি টিভি (ক্যাঠোড রে টিউব) বলা হয়ে
থাকে। বিগত এক দশকে এই ডিসপ্লে প্রযুক্তির অনেক উন্নতি ঘটেছে, আমাদের চারপাশে ডিজিটাল ডিসপ্লের সংখ্যাও বেড়েছে
স্মার্টফোন, টাবলেট, কম্পিউটার, ল্যাপটপ ইত্যাদির কল্যাণে। বেশ কিছু প্রযুক্তির
নাম আমাদের মুখে মুখে আজ ঘোরে, যেমন এল সি
ডি, এল ই ডি, প্লাজমা, ও এল ই ডি, অ্যাম ও লি ডী, আই পি এস ইত্যাদি, (LCD, LED, Plasma, OLED, AMOLED, IPS) যদিও আমরা এদের বিষয়ে আমরা অনেকেই সম্পুর্ন ভাবে
অবহিত নই বা ভ্রান্ত ধারনা পোষন করে থাকি। আমি আমার অতি সীমিত জ্ঞান নিয়ে এই সব প্রযুক্তিগুলি সহজ ভাষায় কে বুঝতে
চেস্টা করেছি যা পাঠকদের বোঝাতে চেস্টা করব।
প্রথমেই একটি কথা বলে নেওয়া দরকার যে LED TV এবং LCD
TV- এর পার্থক্য কি?
আজকাল আমরা Plasma, LCD র,
DLP, ওএলইডি, টেলিভিশনের মুখোমুখি হই এবং
সাধারনত বুঝি যে একটি LED টিভি ও একটি LCD টিভি সম্পুর্ন আলাদা এক একটি প্রযুক্তি। LED TV এর
সঠিক নাম আসলে ", LED-backlit LCD টিভি", দৈনন্দিন
কথোপকথন জন্য একটি এটি একটি সংক্ষিপ্ত নাম ধারন করেছে। এই দুই ধরনের টিভি ই LCD
টিভি, একটি তে CCFL (Cold Cathode Fluorescent Lamp)
Backlight থাকে আর একটিতে LED Backlight. আসলে
ছবি দেখানোর পদ্ধ্যতি দুটিতেই এক এবং অভিন্য।
এল সি ডি টিভির অন্তর্বর্তী সজ্জ্যাঃ
উভয় ধরনের টিভিতেই একটি তরল স্ফটিক প্রযুক্তির (LCD র) একটি প্যানেল মাধ্যামে নিয়ন্ত্রণ করা আলো আপনার পর্দায় প্রদর্শিত
হয়। এই প্যানেলের প্রতিটি বিন্দু (পিক্সেল)কে এক একটি জানালা ধরে নেওয়া যাক , যার
প্রতেকটি জানালা কে ইচ্ছে মতন কম বেশি খোলা যায় । এই জানালা গুলির পেছন দিকে একটি জোরালো সাদা আলো থাকে এবং এই
জানালা গুলি বিশেষ ভাবে খুলে ইচ্ছে মতন রঙ এর আলো বের করা যায়। (সাধারনত লাল, নীল
ও সবুজ এই তিনটি রংকেই ব্যাবহার করা হয়)। সুতরাং কোনো ছবি দেখাতে হলে ছবিটির যেখানে যেমন
রঙ সেইখানে জানালা গুলি ঠিক তেমন ভাবে খুলে সেই সেই রঙ এর আলো বাইরে বের করে সেই
ছবি টি পর্দায় প্রদর্শিত হয়। প্রত্যেকটি জানালা তে ইলেক্ট্রিক এর তার সংযুক্ত
থাকে যার সাহায্যে বিভিন্য ভোল্টেজ পাঠিয়ে
জানালা গুলিকে আলাদা আলাদা ভাবে খোলা যায়। এই তার এর যে জাল থাকে তা এতই সুক্ষ যে
তা খালি চোখে দেখা যায় না, একেই টি এফ টি বলা হয় (TFT) Thin Film Transistor.
এই প্রযুক্তির নতুন
আবিস্কার অ্যাক্টিভ মাট্রিক্স টেকনোলজি যার সাহায্যে প্রত্যেকটি জানালা একই সময়ে আলাদা
আলাদা ভাবে খোলা বন্ধ্য করা যায়, যা আগে শধুমাত্র এক একটি লাইনের জানালা এক বারে
খোলা বন্ধ্য করা যেত। এই অ্যাক্টিভ মাট্রিক্স টেকনোলজি তে পুরো ডিসপ্লে একবারে
পরিবরতন করা যায় যার জন্ন্য যে রিফ্রেস রেট আগে 75Hz এর বেশি হত না, এখন তা
200Hz অব্দি করা সম্ভব হয়েছে। এই অ্যাক্টিভ মাট্রিক্স
প্রযুক্তি কে কাজে লাগিয়েই অ্যাক্টিভ শাটার 3D দেখানো হয়।
(অ্যাক্টিভ শাটার 3D সম্নদ্ধে বিষদে জানতে বিজ্ঞান মেলা ফেব্রুয়ারি ১৫
সংখ্যা পড়ুন।)
LED-LCD TV এবং CCFL-LCD TV এর মধ্যে
ভালো কোনটা ?
এখন মনে একটি সন্দেহ হতে পারে যারা এই ধরনের দুই ধরনেই টিভি
সচক্ষে দেখেছেন, তারা জানেন, LED-backlit LCD টিভির ছবি অন্ন্যটির তুলনায়
অনেক বেশি ভালো, তাহলে পার্থক্য ত কিছু নিশ্চয় আছে। তা হল ছবির উজ্জলতা (Contrast
). CCFL হল পুরটি একটিই আলো যা স্ক্রীন এর নির্দিস্ট স্থান বিশেষে
কমানো বাড়ানো যায় না, পুরো স্ক্রীন এর আলো এক সাথে কম বেশি হয়। LED backlight LCD টিভিতে প্রত্যেকটি জানালা বা পিক্সেল এর পেছনে এক একটি LED
আলো থাকে যাকে আলাদা আলাদা ভাবে কম বা বেশি করা যায়। যেখানে কালো
সেখানে আলো বন্ধ্য করে ও সাদা জায়গায় আলো পুরো মাত্রায় বাড়িয়ে ছবিকে অনেক বেশি
স্পষ্ট ও উজ্জ্বল করে হয়। এছাড়া CCFL এর থেকে LED আলো তে উত্তাপ কম হওয়ায় LCD
প্যানেল এর জীবন অনেক বেড়ে যায় এবং দীর্ধ সময় একটানা ব্যাবহারে
প্যানেল পুড়ে যায় না। LED আলোর আকার CCFL এর থেকে অনেক কম হয়ায় টিভি অনেক চ্যাপ্টা হয়ে যায়, মানে বেধ কমে যায়।
বর্তমানে LED backlight LCD টিভির বেধ ১ ইঞ্ছির ও কম।
এই প্রসঙ্গে আর একটি বিষয় আবার জানিয়ে রাখা ভালো যে যে কোনো
ডিসপ্লে ই তিনটি প্রধান রঙ লাল, নীল ও সবুজ রঙ নিস্যারিত করে যা সমন্ন্যেয়ে আমাদের
সব রকম রঙ দেখায়। বর্তমানে প্রতেকটি জানালা বা পিক্সেল এর পেছনে একটি করে সাদা LED আলো না ব্যাবহার করে তিনটি করে
আলো দেওয়া হয় যা রঙ লাল, নীল ও সবুজ রঙের। এই পদ্ধ্যতিতে ছবির গুনগত মান আরো অনেক
উন্নত হয়। এই ঘরনের LED টিভি কে RGB LED Backlit LCD
TV বলা হয়।
সুতরাং LED-backlit LCD
টিভি হল সেরা LCD টিভি।
LCD এবং প্লাজমা
টিভির মধ্যে পার্থক্য কি?
বর্তমানে প্লাজমা টিভি প্রায় পাওয়াই যায় না তাও এ সম্মন্ধে লিখতে গিয়ে এই প্রযুক্তি কে একেবারে এড়িয়ে যাওয়া বোধহয় ঠিক হবে না। একটি প্লাজমা স্ক্রীন একটি LCD অনুরূপ, কিন্তু একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ভাবে কাজ করে। প্রতিটি বিন্দু বা পিক্সেলে কার্যকরভাবে এক একটি প্লাজমা যাকে আমরা এক একটি CRT টিভি হিসাবে গন্য করতে পারি। প্লাজামা হল গ্যাস এর একটি অত্যান্ত গরম অবস্থা যার মধ্যে একটি আণুবীক্ষণিক বন্দুক এর সাহায্যে একটি প্লাজমা পরমাণু কে নেগেতিভ (–ve) ইলেকট্রন এবং পজেতিভ (+ve) আয়নে পৃথক্ করে পাঠানো হয় যারা যখনই সংঘর্ষ করে তখনি আলোর উৎপাদন হয়। প্লাজমা স্ক্রিন সাধারণ ক্যাথোড রে টিউব টেলিভিশনের তুলনায় অনেক বড় হতে পারে, কিন্তু তারা অনেক বেশি ব্যয়বহুল. এবং প্রযুক্তিগত অসুবিধার কারনে এই ধরনের তেলিভিশনে Full HD রেজোলিউশান পাওয়া সম্ভব নয়।
বর্তমানে প্লাজমা টিভি প্রায় পাওয়াই যায় না তাও এ সম্মন্ধে লিখতে গিয়ে এই প্রযুক্তি কে একেবারে এড়িয়ে যাওয়া বোধহয় ঠিক হবে না। একটি প্লাজমা স্ক্রীন একটি LCD অনুরূপ, কিন্তু একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ভাবে কাজ করে। প্রতিটি বিন্দু বা পিক্সেলে কার্যকরভাবে এক একটি প্লাজমা যাকে আমরা এক একটি CRT টিভি হিসাবে গন্য করতে পারি। প্লাজামা হল গ্যাস এর একটি অত্যান্ত গরম অবস্থা যার মধ্যে একটি আণুবীক্ষণিক বন্দুক এর সাহায্যে একটি প্লাজমা পরমাণু কে নেগেতিভ (–ve) ইলেকট্রন এবং পজেতিভ (+ve) আয়নে পৃথক্ করে পাঠানো হয় যারা যখনই সংঘর্ষ করে তখনি আলোর উৎপাদন হয়। প্লাজমা স্ক্রিন সাধারণ ক্যাথোড রে টিউব টেলিভিশনের তুলনায় অনেক বড় হতে পারে, কিন্তু তারা অনেক বেশি ব্যয়বহুল. এবং প্রযুক্তিগত অসুবিধার কারনে এই ধরনের তেলিভিশনে Full HD রেজোলিউশান পাওয়া সম্ভব নয়।
OLED টিভি সম্পর্কে কিছু কথা :
তাহলে
LED বা
CCFL আলো উৎপন্য করে যা LCD এর মাধ্যমে ছবিতে রপান্তরিত হয়। বর্তমানে আরো একটি নতুন প্রযুক্তি জন্ম নিয়েছে
যা নেজেই আলো উতপন্ন করে নিজেই ছবি পর্দায়
প্রদর্শিত
করে। এমন প্রযুক্তির নাম OLED ( Organic Light Emitting Diode.) যা কিনা শুধু পাতলা এবং দক্ষ হয় না, তারা নমনীয় (Rollable) এবং স্বচ্ছ হতে পারে।
নমনীয় ওএলইডি প্রদর্শন প্রোটোটাইপ
এই OLED ডিসপ্লে কি?
ওএলইডি (জৈব light emitting ডাওড) দুই পরিবাহি স্তর (conductors) এর মধ্যে একটি পাতলা জৈব স্তর থাকে যা কার্বন ও হাইড্রোজেন থেকে তৈরি করা, পরিবাহি স্তর দুইটির একটি পজেটিভ (অ্যানোড)ও অন্যটি নেগেতিভ (ক্যাথোড) একটি বৈদ্যুতিক সিরিজ দ্বারা স্থাপন করা থাকে। এতে আর দুই ধরনের স্তর থাকে একটি অধিক ইলেক্টন যুক্ত ও অন্যটি থেকে ইলেক্ট্রন নিঃসারন করে নেওয়া হয়। আধুনিক ওএলইডি ডিভাইসে তাদের আরো দক্ষ করার জন্য আরো অনেক স্তর ব্যবহার হয়, কিন্তু মৌলিক কার্যকারিতা একই থাকে। এই প্রযুক্তিতে বৈদ্যুতিক প্রবাহ প্রয়োগ করা হলে উজ্জ্বল আলো নির্গত হয়. অ্যাক্টিভ মাত্রিক্স প্রযুক্তি ও ওলেড প্রযুক্তি মিলিয়ে যে প্যানেল তৈরি হয় তাতে সাদা বা RGB backlight প্রয়োজন হয় না এবং তা LCD প্রদর্শন অপেক্ষ্যা অধিক কার্যকরী হয়।
এই ওলেড ডিস্প্লে
তে আরও অনেক উপকারিতা আছে যেমনঃ
ভাল স্থায়িত্ব - OLEDs খুব টেকসই এবং একটি বৃহত্তর তাপমাত্রা পরিসীমা মধ্যে কাজ করতে পারে।
দ্রুত রিফ্রেশ রেট এবং নিখুত কালো ও সাদা রঙ দেখানোর ক্ষমতা,
দ্রুত রিফ্রেশ রেট এবং নিখুত কালো ও সাদা রঙ দেখানোর ক্ষমতা,
বৃহত্তর উজ্জ্বলতা - পর্দা উজ্জ্বল হয়,
এবং একটি পূর্ণাঙ্গ দেখার কোণ আছে,
হালকা ওজন - পর্দা খুব পাতলা করা যেতে পারে, এবং এমনকি নমনীয় অসমতল উপরিভাগের মুদ্রিত 'করা যেতে পারে।
ওলেড ডিসপ্লে
নমনীয় এবং এমনকি স্বচ্ছ প্রদর্শন তৈরি করতে ব্যবহার করা যেতে পারে।
ভবিষ্যতে আমরা এই
প্রযুক্তির সাহায্যে বানানো বড় বড় ডিসপ্লে পাব যাকে গুটিয়ে রাখা যাবে, ভঙ্গুর হবে
না। যে কোন স্বচ্ছ কাচের টেবিল, জানালা, দেওয়াল নিমেষে একটি সুন্দর ডিসপ্লে তে
পরিবর্তিত হয়ে যাবে। এই প্রযুক্তি এ আমাদের ভবিষত ডিসপ্লে।
জানুয়ারী 2013
সালে, এলজি বিশ্বের প্রথম OLED টিভি (55EM9700) বের করে. এলজির এই টিভি্তে যে চমৎকার রং এবং সাদা কালোর বিপরীতে
অনুপাত দেখা যায় যে তা একটি অত্যাশ্চর্য। 55" ইঞ্চি ফুল এইচডি প্যানেলে
অতিরিক্ত য়ার কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে. টিভি মাত্র 4 মিমি পুরু এবং মাত্র 3.5 কেজি
ওজন।
আমোলেড AMOLED ডিসপ্লেঃ
অ্যাক্টিভ মাট্রিক্স প্রযুক্তি ও
অরগ্যানিক এল ই ডি প্রযুক্তির সমন্নয়ে বানানো ডিসপ্লে হল আমোলেড ডিসপ্লে যা আজকাল
বিভিন্য স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, টিভিতে ব্যাবহার করা হয়। অ্যাক্টিভ মাট্রিক্স
প্রযুক্তির ব্যাপারে আমি আগেই বিস্তারিত ভাবে বলেছি। অ্যাক্টিভ মাট্রিক্স
প্রযুক্তি ছাড়া যে সব ও এল ই ডি ডিসপ্লে আছে তাতে প্রতি পিক্সেল হিসেবে আলোর
উজ্জলতা পরিবর্তন করা সম্ভব হয় না এই কারনে সাদা কালোর বিপরীত অনুপাত কমে যায় (less Contrast Ratio), তাই আমোলেড ডিসপ্লে হল
সবথেকে ভালো প্রযুক্তি। কিছু সংস্থা সুপার আমোলেড ডিসপ্লে বাজারে এনেছে
কিন্ত এটা নিতান্তই একটি বিজ্ঞাপন পদ্ধতি, আরো আকর্ষনিয় করে তোলার জন্যেই এই
নামকরন, এটি একই রকম ওরগ্যানিক এল ই ডি প্রযুক্তি, এতে আলাদা কিছুই নেই।
আইপিএস (IPS) ডিসপ্লেঃ
আইপিএস (সমতল স্যুইচিং), আসলে
আরো একটু উন্নত মানের LED Backlit LCD ডিসসপ্লে যেটা বেশি দেখার কোণ এবং পরিষ্কার ছবি থাকার জন্য পরিচিত
একটি প্রযুক্তি. আপনি আইফোন 4 এবং আইফোন 4s এই প্রদর্শন
খুঁজে পেতে পারেন. এই প্রযুক্তিতে বানানো ডিসপ্লে সুর্যের আলোতেও পরিস্কার দেখা
যার ও যে কোনো কোন থেকে এই ডিসপ্লে পরিস্কার দেখা যায় (wide Viewing
Angle).
নানান ধরনের প্রযুক্তির একটি
সারমর্ম এখানে দিনামঃ আশা করি আমি বিজ্ঞানের কিছু জটিল ত্তথ্য সহয ভাবে বোঝাতে
সক্ষ্যম হয়েছি, আমার সীমিত জ্ঞানের কারনে কিছু ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে মার্জনা করবেন
ও তা সুধরে দেবেন।
বিজ্ঞান কে সহজ ভাবে জানা ও
জানানোর প্রচেস্টা আমি ভবিষ্যতেও চালিয়ে যাব।





